
বাংলাদেশে ‘দালাল’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে একটি নেতিবাচক অর্থ বহন করে আসছে। অভিবাসনের ক্ষেত্রে এ শব্দটি প্রতারণা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মানব পাচার কিংবা দুর্বল মানুষের ওপর শোষণের সঙ্গে প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এ একমুখী দৃষ্টিভঙ্গি কি বাস্তবতার পূর্ণ প্রতিফলন? নাকি এটি একটি জটিল সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াকে অতিরিক্ত সরলীকরণ করে ফেলছে? বাংলাদেশি অভিবাসন নিয়ে করা একটি গবেষণা আমাদের এ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। এতে দেখা যায়, মধ্যস্বত্বভোগীরা শুধু শোষক নয়; বরং তারা একটি বৃহত্তর অভিবাসন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ, অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
প্রচলিত তত্ত্ব বনাম বাস্তব অভিজ্ঞতা : অভিবাসন গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে-ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্র যখন অভিবাসনের ওপর আইনি বাধা আরোপ করে, তখনই মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবসা গড়ে ওঠে। অর্থাৎ, দালাল বা এজেন্টরা মূলত আইনি সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি করে। এ তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ‘Migration business’ ধারণা, যেখানে অভিবাসনকে একটি লাভজনক বাজার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সেই বাজারের উদ্যোক্তা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এখানে সম্পর্কটি মূলত অর্থনৈতিক-একটি দূরত্বপূর্ণ লেনদেন, যেখানে অভিবাসী একটি সেবা ক্রয় করে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু এ তাত্ত্বিক কাঠামো বাস্তব অভিজ্ঞতার অনেক দিককে উপেক্ষা করে-বিশেষ করে সামাজিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট এবং অভিবাসীদের নিজস্ব ভূমিকা।
‘Enemy or ally: migrants, intermediaries and the state in Bangladeshi migration to Japan and the United States’ শিরোনামের আমার গবেষণাটি এ প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে দেখায়, মধ্যস্বত্বভোগীদের অস্তিত্ব কেবল আইনি বাধার ফল নয়। বরং তারা এমন পরিস্থিতিতেও সক্রিয় থাকে, যেখানে অভিবাসন সম্পূর্ণ বৈধ।
বৈধ অভিবাসনেও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রয়োজন কেন? : গবেষণাটিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেস স্টাডি বিশ্লেষণ করা হয়েছে-বাংলাদেশি অভিবাসীদের জাপানে ভাষা শিক্ষার্থী হিসাবে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি লটারি) প্রোগ্রামের মাধ্যমে অভিবাসন। এ দুই ক্ষেত্রেই অভিবাসন ছিল পুরোপুরি বৈধ। তবুও দেখা যায়, বেশির ভাগ অভিবাসী মধ্যস্বত্বভোগীদের সাহায্য নিয়েছেন। এ পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি দেখায়, অভিবাসনের বাস্তবতা কেবল আইনি অনুমতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং অভিবাসন একটি জটিল প্রক্রিয়া, যেখানে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই, একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, সময়মতো কাগজপত্র প্রস্তুত করা, বিদেশি নিয়ম-কানুন বোঝা এবং অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি মোকাবিলা-এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করে। এ জটিলতার মধ্যেই মধ্যস্বত্বভোগীরা একটি কার্যকর সমাধান হিসাবে আবির্ভূত হয়।
সেবা, দক্ষতা ও নেটওয়ার্ক : মধ্যস্বত্বভোগীদের কার্যকর ভূমিকা : জাপানের ক্ষেত্রে, একজন বাংলাদেশি অভিবাসীকে ভাষা স্কুলে ভর্তি হতে হয়, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয় এবং জাপানে একজন গ্যারান্টার খুঁজে পেতে হয়। এ প্রক্রিয়াটি ভাষাগত, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত জটিল। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীরা তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এ প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি বিজয়ীদের ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল ভিন্ন ধরনের। এখানে তথ্যের অভাব নয়, বরং প্রশাসনিক জটিলতা ছিল প্রধান বাধা। বিভিন্ন দপ্তর থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ, নাম ও জন্মতারিখের অসংগতি, সংশোধন এবং নির্ভুলভাবে সবকিছু প্রস্তুত করা-এসব কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। এ প্রেক্ষাপটে অভিবাসীরা মধ্যস্বত্বভোগীদের ‘দক্ষ বিশেষজ্ঞ’ হিসাবে দেখেছেন এবং তাদের ওপর নির্ভর করেছেন ।
অভিবাসীদের ভূমিকা : তারা কি সত্যিই অসহায়? : প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, অভিবাসীরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে সম্পূর্ণ অসহায়। কিন্তু গবেষণাটি দেখায়, বাস্তবতা ভিন্ন। অভিবাসীরা সক্রিয়ভাবে এজেন্ট নির্বাচন করে, তাদের সেবার মান ও ফি তুলনা করে, অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং সুনাম বা বদনামের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা মধ্যস্বত্বভোগীদের আচরণকে প্রভাবিত করে। একজন এজেন্টের ব্যবসা তার সুনামের ওপর নির্ভর করে এবং এ সুনাম তৈরি বা ধ্বংস হয় অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে। ফলে এজেন্টরা বাধ্য হয় তাদের সেবার মান বজায় রাখতে। এ বাস্তবতা দেখায়, অভিবাসীরা কেবল ভুক্তভোগী নয়; তারা একটি সক্রিয় ও প্রভাবশালী পক্ষ।
সম্পর্কের প্রকৃতি : বাজার, না সামাজিক বন্ধন? : আমার গবেষণাটি আরও দেখায়, অভিবাসী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পর্ক একরৈখিক নয়; বরং এটি প্রেক্ষাপটভেদে পরিবর্তিত হয়। জাপানের ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি এবং বাজারভিত্তিক, যেখানে অভিবাসী গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সম্পর্কের অবসান ঘটে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সম্পর্কটি দীর্ঘস্থায়ী এবং অনেক সময় নিয়ন্ত্রণমূলক হয়ে ওঠে। কারণ অভিবাসীরা সেখানে গিয়ে উপার্জন শুরু করার পর এজেন্টকে অর্থ পরিশোধ করে। এ পার্থক্য দেখায় যে, সম্পর্কটি শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং পরিস্থিতিগত উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।
রাষ্ট্র ও মধ্যস্বত্বভোগী : প্রতিযোগিতা না সহাবস্থান? “ প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। কিন্তু গবেষণাটি দেখায়, অনেক ক্ষেত্রে তারা পরস্পরের পরিপূরক। জাপানের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীরা শিক্ষার্থী ভিসার মাধ্যমে এমন একটি শ্রমশক্তি সরবরাহ করে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উপকারী, যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীরা অভিবাসীদের কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে, যা ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল করে তোলে এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। ফলে দেখা যায়, মধ্যস্বত্বভোগীরা সবসময় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করে না; বরং অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় শূন্যতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের উত্থান :গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে-বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সীমিত ভূমিকা। অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীরা সরাসরি কোনো সরকারি সহায়তা পায় না। এ শূন্যস্থান পূরণ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা। ফলে তারা অভিবাসন প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়। এ বাস্তবতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায় : রাষ্ট্র যদি তার প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সেবা প্রদান ব্যবস্থা শক্তিশালী করত, তাহলে কি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রয়োজন কমে যেত? যদিও গবেষণাটি এ প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয় না, তবে এটি স্পষ্ট করে, রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধতা মধ্যস্বত্বভোগীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে।
অভিবাসন একটি জটিল ইকোসিস্টেম : এ গবেষণা আমাদের অভিবাসনকে একটি জটিল ইকোসিস্টেম হিসাবে দেখতে শেখায়, যেখানে বিভিন্ন অভিনেতা একসঙ্গে কাজ করে। অভিবাসী, মধ্যস্বত্বভোগী, প্রেরণকারী রাষ্ট্র, গন্তব্য রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় প্রশাসন-এসব উপাদান মিলে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করে। এ কাঠামোর মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী শক্তি হিসাবে কাজ করে, যারা বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় ঘটায়।
মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসনে মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্ভাব্য ইতিবাচক ভূমিকা : এ গবেষণার আলোকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রম অভিবাসনের বাস্তবতা নতুনভাবে ভাবা জরুরি। কারণ মধ্যপ্রাচ্যই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অভিবাসন গন্তব্য, যেখানে লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। অথচ এ খাতে ‘দালাল’ শব্দটি সবচেয়ে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যদি আমরা গবেষণার আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাই, মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসন প্রক্রিয়াটিও জটিলতা, তথ্যের অসমতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতায় ভরপুর। একজন গ্রামীণ অভিবাসীকে চাকরি খোঁজা, নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা, ভিসা ও কন্ট্রাক্ট বোঝা এবং বিদেশে যাওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এমন একটি সহায়ক কাঠামোর প্রয়োজন হয়, যা বাস্তবে অনেক সময় রাষ্ট্র দিতে পারে না। এ শূন্যস্থান পূরণ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা। গবেষণায় যেমন দেখা গেছে, অভিবাসীরা শুধু তথ্যের জন্য নয়, বরং ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ এবং ‘বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ’-এর জন্যও এজেন্টের ওপর নির্ভর করে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রেও এ বাস্তবতা প্রযোজ্য। একজন অভিবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো-সে কি সত্যিই চাকরি পাবে? তার চুক্তি কি সত্যি? তার বেতন কি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হবে? এ অনিশ্চয়তার মধ্যে একজন পরিচিত বা বিশ্বস্ত মধ্যস্বত্বভোগী অনেক সময় ‘বিশ্বাসের সেতু’ হিসাবে কাজ করে। একইসঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীরা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করে। তারা নিয়োগকর্তার চাহিদা, ভিসা প্রক্রিয়া এবং শ্রমিকের প্রাপ্যতা-এ তিনটি বিষয়কে একত্রিত করে একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে, তারা শ্রমবাজারের দক্ষতা বাড়াতে পারে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে পারে এবং অভিবাসীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এ ইতিবাচক ভূমিকা তখনই সম্ভব, যখন মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনা যায়। অন্যথায়, একই কাঠামো শোষণের ক্ষেত্রেও পরিণত হতে পারে।
অতএব, মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার চেষ্টা না করে, বরং তাদের একটি নিয়ন্ত্রিত, প্রশিক্ষিত এবং দায়বদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীরা সমস্যা নয়-বরং সমাধানের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য নীতিগত পথনির্দেশ : এ বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। প্রথমত, মধ্যস্বত্বভোগীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়; বরং তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা উচিত। এর মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের প্রশাসনিক জটিলতা কমানো জরুরি। সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, ধীরগতির সেবা এবং তথ্যের অসংগতি-এসব সমস্যার কারণে অভিবাসীরা বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করে। ডিজিটালাইজেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে এ সমস্যাগুলো কমানো গেলে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর হবে। তৃতীয়ত, সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা যেতে পারে, যা একদিকে অভিবাসীদের সুরক্ষা দেবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবাহ বাড়াবে। চতুর্থত, অভিবাসীদের তথ্যপ্রাপ্তি ও দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। তারা যদি সঠিক তথ্য ও প্রশিক্ষণ পায়, তাহলে তারা আরও সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে। সবশেষে, মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি ‘মাইগ্রেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ হিসাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন-যারা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সহজতর করে এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশের পথ তৈরি করে।
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই মূল চাবিকাঠি
মধ্যস্বত্বভোগীদের আমরা এতদিন একমাত্রিকভাবে দেখেছি-একটি সমস্যার উৎস হিসাবে; কিন্তু বাস্তবতা দেখায়, তারা একইসঙ্গে সমস্যা ও সমাধান। গবেষণাটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়: মধ্যস্বত্বভোগীরা অভিবাসন ব্যবস্থার বাইরে নয়; তারা তার ভেতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অতএব, তাদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা নয়, বরং একটি স্বচ্ছ, দক্ষ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসাই হবে সঠিক পথ। বাংলাদেশ যদি এ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারে, তাহলে অভিবাসন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়-বরং জাতীয় উন্নয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
ড. হাসান মাহমুদ : সহযোগী অধ্যাপক, নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কাতার
১২ মে ২০২৬, দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত।